কেনো ফেসবুক এর সকল সার্ভিস সমুহ ৬ঘণ্টা বন্ধ ছিল?

 

ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ,মেসেঞ্জার সহ ফেসবুক এর অন্যান্য সকল প্ল্যাটফর্ম গতকাল রাত ১০.৩০ এর পর থেকে ৬ঘণ্টার মত সময় বন্ধ ছিল(বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী) সম্পূর্ণ পৃথিবী তে।এটা ছিল পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ইন্টার নেট ক্রাশ এর মধ্যে একটি।আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা জানতে চলেছি যে ফেসবুক এর মত এত বড় একটা কোম্পানির সার্ভার কি কারণে ৬ঘণ্টা বন্ধ রয়ে ছিল।

অনেকে তো এরকম ফেসবুক সহ অন্যান্য সাইট/অ্যাপ গুলো এমন হওয়ায় তাদের ফোন,পিসি, ওয়াইফাই এর উপরে নানা ধরনের অত্যাচার কিংবা বিভিন্ন সমস্যায় পরে গিয়েছিল।অনেকে তো ভেবেই বসেছিল ফোন এ সমস্যা তাই রিস্টার্ট করেছিল,কিংবা অনেকে নেট এ সমস্যা দেখে ওয়াইফাই রি স্টার্ট করেছিল।

তাই এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ থাকায় অনেকে টুইটার,টেলিগ্রাম সহ ফেসবুক এর বিকল্প জায়গায় লেগে পড়েছিল।সকল জায়গায় মেসেজ আসায় অনেক ধরনের সাইট স্লো হয়ে গিয়েছিল।তবে হ্যা একটা জিনিস আমরা বুজলাম যে আমরা ফেসবুক এর বিভিন্ন সার্ভিস এর উপরে কিভাবে নির্ভরশীল।তারপরেও একটা জিনিষ বাংলাদেশ কিংবা ইন্ডিয়ার সময় অনুযায়ী রাতে হলেও অনেকের মাথার চুল পর্যন্ত পরে গিয়েছিল (ফাইজলামি করলাম)।ঠিক ওই সময় যদি আপনি টুইটার এ গিয়ে থাকেন তাহলে বুঝতেন কি পরিমান পোস্ট মানুষেরা করছে ফেসবুক এর বিষয় নিয়ে।টুইটার এর দেয়া একটা পোস্ট এ তো কিছু সময়ের মধ্যেই ৩০লাখ লাইক/৩মিলিয়ন লাইক হয়ে গিয়েছিল।ঠিক সেই সময় বড় বড় বিভিন্ন কোম্পানি যেমন McDonald’s, Netflix সহ মোটামুটি সবাই টুইট করেছিল।

এখন আসি মেইন পয়েন্ট এ কেনো !

ফেসবুক ,হোয়াটস অ্যাপ ,ইনস্টাগ্রাম একই সাথে কেনো ডাউন হলো?

আসলে এই ৩টা কোম্পানির মেইন পয়েন্ট হলো ফেসবুক অর্থাৎ হোয়াটসঅ্যাপ ,ইনস্টাগ্রাম পরিচালনা করে থাকে ফেসবুক।৩টা কোম্পানির সকল মেইন সার্ভার হলো ফেসবুক এর।অর্থাৎ আমরা বলতে পারি ফেসবুক এর অন্যান্য এপের সকল সার্ভিস থাকে ফেসবুক এর হাতে।৩টা প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক এর সাথেই কানেক্ট রয়েছিল তাই একই সাথে ডাউন হয়েছিল। আসলে ফেসবুক এর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সার্ভার রয়েছে কিন্তু সকল কিছু একটা জায়গা থেকেই মেইনটেইন করা হয়।অনেকের কাছে তো এক হিসেবে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ই বন্ধ ছিল।

৬ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ থাকায় কোনো লাভ/লস হয়েছে?

৬ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ থাকায় ফেসবুক এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এর ৬বিলিয়ন এর ও বেশী ডলার লস হয়ে গিয়েছে ।অনেকে তো এটাই ভেবে নিয়েছিল যে ফেসবুক মনে হয় একদম বন্ধ হয়ে যাবে।বন্ধ থাকার কারণে তাদের শেয়ার ৫% ড্রপ হয়ে যায়।আসলে ফেসবুক এর কর্মকর্তারা তাদের যে সার্ভার রয়েছে সেইখানেই যেতে পারছিল না কারণ তারা ফেসবুক এই কোনো ভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়নি।মূলত তাদের একটা কার্ড এর মাধ্যমে সার্ভার এ প্রবেশ করে কিন্তু যেহুতু ফেসবুক ই বন্ধ তাহলে কার্ড এর কাজ করার প্রশ্ন ই আসে না!ফেসবুক এর কমিউনিকেশন সম্পর্কিত যত ধরনের টুল ছিল সকল কিছু কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়।

ফেসবুক এর কর্মকর্তারা কি বলেছিল?

ফেসবুক এর এক কর্মকর্তা জানান যে তাদের কনফিগারেশন চেঞ্জ হওয়ার কারণে এমন প্রবলেম হয়েছিল।মূলত তাদের DNS (Domain Name Server) চেঞ্জ হওয়ার কারণে এমন সমস্যার সন্মুখীন হওয়া লাগে।

DNS (Domain Name Server) কি?সংক্ষেপে জানুন।

কিন্তু এই লাইন টা সাধারণ একজন ব্যাক্তির জন্য বুজা অনেকটুকুই কষ্টকর।একটা সার্ভার এর সাথে ১৫-২০ কিংবা বেশি কম্পিউটার যুক্ত থাকে ।একটা সার্ভার এ অনেকগুলো তার/ক্যাবল থাকে যেগুলো যেকোনো সময় জ্যাম লেগে যায়।এখন যদি আপনি সার্ভার এর এসেস নিতে চান তাহলে সেটা আপনার কম্পিউটার/ল্যাপটপ এর সাথে কানেক্ট করতে হবে।একটা সার্ভার এবং কম্পিউটার এর মধ্যে কানেক্ট/সংযোগ করতে হলে অনেক ধাপ পেরোতে হয় যেমন রাউটার,এসেস পয়েন্ট।এতক্ষণ যা বললাম এটা মূলত ইন্ডিয়ান টেক ইউটিউবআর Tech Burner এর কথা ছিল।এখন তাদের তো 1টা সার্ভার এর কথা তুলে ধরা হলো কিন্তু ফেসবুক এর লক্ষ লক্ষ সার্ভার রয়েছে।সার্ভার এর যে আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে এটা হারাই গেলেই আপনার সকল ডাটাও হারিয়ে যাবে।আসলে তাদের সাথেও এমনটাই হয়েছিল Dns টা হলো www.yoursite.com এইরকম একটা অংশ।এটার পিছনে থাকে একটা আইপি অ্যাড্রেস যেমন ধরুন ফেসবুক এর আইপি অ্যাড্রেস এও এমন একটা কোড থাকে ধরুন 119846.46569.5688.9(ভুল কোড)এটাকে হাইড করার জন্যই মূলত ডোমেইন ব্যাবহার করা হয় থাকে।মূলত এই কোড এর সাথেই সার্ভার কানেক্ট হয় তারপরেই আপনি সেখানে যেতে পারেন।ফেসবুক থেকে ডাইরেক্টলি বলে দিয়েছিল তাদের রাউটিং ডাটা মিস এর কারণে এমন হয়েছে কিন্তু কেনো হয়েছিল চলুন সেটা জানা যাক।

রাউটিং ডাটা মিস হওয়ার কারণ কি?

ফেসবুক এর মেইন ডোমেইন Facebook.com মূলত সেল এর জন্য চলে গিয়েছিল।কিন্তু মূলত কেউ এটা কিনতে পারে নি।অর্থাৎ আমরা বলতে পারি এইগুলা রেন্ডমলি ঘটেনি।টুইটার এর কিছু ব্যাক্তি আরো বলেন,ফেসবুকের শুধু DNS ই ডিলেট হয়নি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ই ডিলেট হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু ফেসবুক থেকে জানানো হয় এরকম কোনো কিছুই ঘটেনি।সার্ভার সম্পর্কিত সমস্যা হওয়ার কারণ হতে পারে ফেসবুক এর নিজেদের ভুল কিংবা কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু ফেসবুক আরো কনফার্ম করেন যে তাদের ওয়েবসাইট কিংবা কোনো সার্ভিস হ্যাক হয়নি।এটা তাদের ই ভুলের কারণে হয়েছিল।কিছুদিন আগে আরো খবর এসেছিল যে ফেসবুক এর ডাটা লিক সম্পর্কে।কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেসবুক লিক সম্পর্কে তারাও যেমন কিছু বলেনি ক্লিয়ার ভাবে তেমনি ফেসবুক বন্ধ হওয়ার কথা সম্পর্কেও কিছু বলেনি।

এই বিষয়ে যদি আরো কোনো আপডেট আসে তাহলে আমরা অবশ্যই আপনাদের কে এই বিষয়ে জানবো তাই আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে জুড়ে থাকুন।

ফেসবুক ৬ঘণ্টা অফ থাকার কারণে আমরা কি শিখতে পাই?

মাত্র ৬ঘণ্টা অফ থাকার কারণেই যেই ঘটনা ঘটে গিয়েছে সেই থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আমরা কোনো কোম্পানি যাদের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যেমন গুগল কিংবা ফেসবুক তাদের থেকে আমরা কিছু সময়ের জন্য নেটওয়ার্কের আওতায় না থাকলেই আমাদের দৈনন্দিন জীবন,ব্যাবসা সহ অন্যান্য বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়বে।

ধন্যবাদ সবাইকে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ার জন্য। পোষ্টে কোনো ভুল বিষয় বলে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।পরবর্তীতে কোন বিষয়ে পোস্ট করা যায় টা কমেন্ট বক্স এ জানাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.