মাইক্রোসফট – ইতিহাস ও কত বড়?

 

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আসেন।আজকে আমরা একটি গুরুতপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবো।আর সেই বিষয়টি হলো মাইক্রোসফট।আপনাদের সবার কাছে এই মাইক্রোসফট নামটি অনেক পরিচিত।আমাদের মধ্যে অনেকেই জানেনা যে এই মাইক্রোসফট কিভাবে আবিষ্কার হয়েছে। তো আজকে আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।তো চলেন আর কথা বেশি না বলে মাইক্রোসফট নিয়ে আর্টিকেলটা শুরু করা যাক।
আপনি আপনার জীবনে কোনো কাজে কোন ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট ব্যাবহার করেন টা একটু ভেবে দেখেন তো।আপনার বেবহার করা মোবাইল ফোনটি থেকে শুরু করে Unilever বা Nestle এর মত FMCG কোম্পানি মোটামুটি সব কিছুতেই বিস্তার রয়েছে Microsoft এর।এমনকি আপনার রাইড শেয়ারিং অ্যাপ Uber বা সোসিয়াল মিডিয়ার ফেসবুকের কিছু অংশ মাইক্রোসফট এরই অংশ।Statecounter এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রায় ৭৩ শতাংশ মাইক্রোসফট এর অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ব্যাবহার করা হয়।মাইক্রোসফট এর মাধ্যমে বিজনেস অপারেশন,গেমিং এবং পার্সোনাল সংকলন এর ববিৎসত আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।মাইক্রোসফট এমন একটি প্রতিষ্ঠান যাদের প্রতিটি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অন্যদের জন্য বেঞ্চ পার্ক তৈরি করেছে।তবে এই মাইক্রোসফট কোম্পানিটি আসলে কত বড় এটা কি কখনো আপনারা ভেবে দেখেছেন?দুই বন্ধু বিলগেটস আর পল এলেনের হাত ধরে এপ্রিল মাসের ১৯৭৫ সালে এই কম্পিউটার সফটওয়্যার উন্নত করার কোম্পানি তৈরি করা হয় যার নাম দেয়া হয়েছিল মাইক্রোসফট।বিলগেটসের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২৮ এ অক্টোবর ওয়াসিংটনের সিয়াটেল শহরে।১৯৬৮ সালে তিনি ১৩ বসর বয়সে সিয়াটেল শহরের একটি স্কুলে ভর্তি হন।সেখানে তার সাথে পরিচিত হন মাইক্রোসফট কোম্পানির আরেক জন প্রতিষ্ঠাতা পল এলেনের সাথে।১৯৭৩ সালে হারবাদ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন তিনি।অন্নথিকে পল এলেনের জন্ম ১৯৫৩ সালের ২১ সে জানুয়ারি একই শহরে।সেখানে তাদের দুইজনার মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়।১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার লক্ষে দুইজনই পড়ালেখা সেরে দেন।সেই বসড়েই পল এলেন এবং বিলগেটস THE ALTIAR 880 কম্পিউটারের জন্য বেসিক এন্টার প্রি ডেভেলপার এর মাধ্যমে ব্যাবসায়ের জগতে পা রাখেন।মাইক্রো কম্পিউটার আর সফটওয়্যারকে একসাথে করে নাম দেয়া হয় মাইক্রোসফট। 86-DOS™ কে একসাথে করে নিয়ে কোম্পানিটি মূলত IBM এবং এর প্রতিযোগী COMPAQ এর মত প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়ার সাথে সফটওয়ার মার্কেটিং করা শুরু করে।১৯৮৫ সালে মাইক্রোসফট তাদের প্রথম গ্রাফিক ইন্টারফেজভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম Windows 1.0 প্রস্তুত করে যা অ্যাপল এর মেকেনটাস সিস্টেম সফটওয়্যার এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।তবে মাইক্রোসফট এবং আপেল দুটি কোম্পানিই জেরক্সের তৈরি GU AITHER এর মাধ্যমে উদ্দুত্ত হয়।যদিও অ্যাপল এর ওএস শুধুমাত্র অ্যাপল কম্পিউটারগুলোতে বেবহার করা হয়।কিন্তু মাইক্রোসফট এর উইন্ডোজ সকল কোম্পানির কম্পিউটারগুলোতে মেনুফেকচার করার উপযোগী সিল।শুধুমাত্র লাইসেন্স করে নিলেই জে কোনো কোম্পানির মাইকক্রসফটওয়ার এ ওএস বেবহার করা যেত।যদিও উইন্ডোজ ১.o,২.o,৩.o তেও অনেক সমস্যা সিল তবে Windows 95 সিল সমালোচনামূলক গেমিং চেঞ্জার।তৎকালীন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সকল দরনের হার্ডওয়্যার এ ১৪০০ অক্ষম ওএস নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে মাইক্রোসফটওয়ার এর মাধ্যমে।ওএস টিতে বর্তমানে বিখ্যাত শুরুর বোতামটি যুক্ত করার পাশাপাশি ইন্টারনেট অনুসন্ধানকারী ব্রাউজারটি যুক্তি করে মাইক্রোসফট যা তৎকালীন সময়ে ইন্টারনেট বিকাশে অনেক ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি MICROSOFT OFFICE 95 অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যেমে মাইক্রোসফট খুব দ্রুততার সাথে এগিয়ে যেতে থাকে এবং এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানি হিসেবে গড়ে উঠে।২০০০ সালে বিলগেটস CEO এর পদ থেকে সরে আসলে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্টিভ বংমারের নেতৃত্বে মাইক্রোসফট অনেক সুন্দরভাবে উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হয়।স্টিবের নেতৃত্বে মাইক্রোসফট এর প্রোডাক্ট এর লাইন আপে BING , XBOX , MICROSOFT AZURE এবং MICROSOFT SURFACE , WINDOWS PHONE এর মত বেশ কিছু প্রোডাক্ট যুক্ত হয়।যদিও মাইক্রোসফট খুব ভালোই উন্নত হচ্ছিলো কিন্তু সার্তেনাদেলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি মার্কেটে পজিটিভ খ্যাতি পেতে শুরু করে।তিনি মাইক্রোসফট এযুর এবং উনিডাউজ সার্ভার প্রোডাক্ট লাইনআপের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং কোম্পানিটিকে পরিহিত কম্পিউটার এ পরিনত করে।মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইটের একটি তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে কোম্পানিটির
প্রতিশোধক সিল ১৪৩ বিলিয়ন ডলার।এই এমাউন্ত যদি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় তাহলে প্রত্যেকে প্রায় ১৮ ডলার করে পাবে।আর যদি মাইক্রোসফট কে বিশ্বের একটি দেশ দরা হয় তাহলে বিশ্বের ৫৬ তম ধোনি দেশ হবে প্রতিষ্ঠানটি।পার্সোনাল কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম মার্টকেতের ৭৩% মার্কেট শেয়ার নিয়ে শীর্ষে অবস্থান MICROSOFTWARE WINDOWS এবং ১৫% মার্কেট শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে macOS।সারা দেশে ১.৩ বিলিয়ন সক্রিয় লোক রয়েছে MICROSOFT উইন্ডোজ 10 এর। অন্যদিকে পুরনো উইন্ডোজ ব্যবহার করার সংখ্যা অসংখ্য বললেই চলে।২০২০ সালে উইন্ডোজ থেকে মাইক্রোসফট ২২.৩ বিলিয়ন ডলার ইউএসডি রিপিও জেনারেট করে যা কোম্পানির মধ্যে ১৬% রীপিও। এসাড়া একটি সূত্রমতে পার্সোনাল কম্পিউটিং ডিভাইস মার্কেটে ৩.৪৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে আর মাইক্রোসফট সার্ভিসের অধীনে আর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩,৭৪৭ টি কোম্পানি মাইক্রোসফট সার্ভিস বেবহার করছে।এমন কোম্পানি খুব কম পাওয়া যাবে যারা মাইক্রোসফট কোনো প্রডাক্ট বেবহার করেন না।বিশ্বের প্রায় সকল কোম্পানি মাইক্রোসফট 365 বেবহার করে শুধুমাত্র USA তেই ৭,৩১,০০০ কোম্পানিতে এর বেবহার হয়।বর্তমানে মাইক্রোসফট 365 এর ২৪০ বিলিয়ন সক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারী রয়েছে।MICROSOFT 365 এর সফটওয়্যারগুলো বিশেষ করে ওয়ার্ড , পাওয়ারপয়েন্ট এবং এক্সসেল সরাসরি গুগল এর G-SUIT এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীটা করসে।তেমনি ONE DRIVE ও GOOGLE DRIVE ও icloud প্রতিযোগীটা করসে।মাইক্রোসফট একটি বিজনেস কমিউনিকেট প্ল্যাটফর্ম তারা এম্প্লএর একই ভিডিও দেখার পাশাপাশি এক হাজার জনের সাথে একসাথে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে।অন্যদিকে ZOOM,GOOGLE MEET,slake এর মত প্রতিষ্ঠানও বিশ্বের সবাইকে মেসেজিং ও ভিডিও কনফারেন্স করার সুযোগ দিচ্ছে।starista এর সূত্রমতে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসের পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১৪৫ মিলিয়ন উজারস আর ১৫% মার্কেট শেয়ার নিয়ে মাইক্রোসফট টিম প্রতিনিয়ত উন্নতি করে যাচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন এর bing নামক সার্চ ইঞ্জিন বিশিষ্ট কন্টেন্টর।যদিও এই মার্কেটে ৮৮ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে গুগল সবার শেষে তবে ৫.৫৬ শতাংশ নিয়ে মাইক্রোসফট টেবিলের ভালো পজিশন এ আসে।উইন্ডোজ সার্ভার প্রোডাক্টগুলো নিয়ে মাইক্রোসফট অল্প সময়ে ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।বর্তমানে মাইক্রোসফট আমাজন ওয়েবসাইটের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছে।অন্য একটি সূত্র মতে আমাজন ৩২ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে ১৫০ বিলিয়ন ক্লাউড মার্কেট সার্ভিস দিলেও মাইক্রোসফট এর ২০ শতাংশ অর্জন করে নিয়েছে।২০২১ সালে ভিডিও গেম এর মার্কেট সাইজ প্রায় ১৭৫.৮ বিলিয়ন ২০২৩ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলার সারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আসে বেশি বলে সবার মনে হচ্ছে।২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাইক্রোসফটটির এক্সবক্স এর মার্কেট শেয়ার সিল ৪০ শতাংশ।২০২০ সালে মাইক্রোসফট এর Q3 গেমিং রাজস্ব সিল ৩.৬ বিলিয়ন ডলার সনির প্লেস্টেশন কোম্পানির এর সাথে সমানে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে।কোম্পানিটি ৮৪ মিলিয়নেরও বেশি এক্সবক্স 360 গেমিং প্রোডাক্ট বিক্রি করেছে বলে যা একটি উপর আরেকটি রেখে সাজালে ৭,৯৬৪ টি বুর্জখলিফার উচ্চতার সমান হবে।মাইক্রোসফট তাদের গেমিং লাইবেরিকে আরো সম্মিদ্য করার লক্ষে বিভিন্ন গেমিং স্টুডিও কে ডেভেলপ করে যাচ্ছে।২.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময় এ Mincraft স্টুডিও কে অর্জন করে মাইক্রোসফট।এসরা ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে Zenimax মিডিয়াকে অর্জন করে মাইক্রোসফট।Forza , Halo , Fable এর মত ৩০০ টির বেশি গেম যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট।
আশা করছি যে আপনারা সবাই এই মাইক্রোসফট সম্পর্কে প্রায় মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেছেন।কষ্ট করে আপনাদের এই আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনারা যদি কোনো বিষয়ে বিশেষ করে প্রযুক্তির বিষয়ে জানতে চান তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানতে পারেন।তো আজকে এই পর্যন্তই।আল্লাহ হাফেজ। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.