টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির সহজ উপায়!

 

আসসালামুয়ালাকুম সবাইকে।আজকে আমরা একটি হরমোন নিয়ে কথা বলবো।সেই হরমোনটির নাম হচ্ছে টেস্টোস্টেরন হরমোন।চলেন আমরা আজকে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিয়ে কথা বলি।

বর্তমানে আমাদের ব্যবহার করা কসমেটিকস, প্লাস্টিক বোতল।আবার আমাদের অভ্যাস রোদে না যাওয়া,কোনো শারীরিক পরিশ্রম না করা,কম ঘুমানো সহ নানা কারণে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্রমাগত কমতেই আছে।

1️⃣এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন কেনো আমাদের শরীরের জন্য এত গুরুত্তপূর্ণ?

টেস্টোস্টেরন হরমোন কেনো আমাদের শরীরের জন্য এত গুরুত্তপূর্ণ?

একজন পুরুষের কণ্ঠস্বর,দাড়ি,শরীরের চুল, উচ্চতা,মাসেল আর পুরুষত্ব নির্ভর করে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন এর উপর।এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকে বাড়তে শুরু করে এবং ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত লাইফ স্টাইল অনুযায়ী ধীরে ধীরে কমতে থাকে।কিন্তু বর্তমানে আমাদের নিজেদের অনেক কাজের ফলে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন অনেক কম বয়স থেকেই কমে যেতে শুরু করেছে।তো চেষ্টা করতে হবে কিভাবে আমাদের শরীরে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়ানো যায়?

2️⃣এখন প্রশ্ন হতে পারে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন যেহেতু আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাহলে আমরা কিভাবে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করতে পারব?

টেস্টোস্টেরন হরমোন কিভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি?

এই টেস্টোস্টেরন হরমোন যেহেতু আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাহলে আমরা যেভাবে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করতে পারব তার জন্য আমি দুইটা পয়েন্ট বলবো।সেই দুইটি পয়েন্ট এর মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের যে কাজের ফলে আমাদের শরীর থেকে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাচ্ছে সেসব কাজ বন্ধ করা।আরেকটি হচ্ছে কিছু প্রাকৃতিক ব্যাবস্থা নেয়া।আমাদের যে কাজের ফলে আমাদের শরীর থেকে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাচ্ছে সেসব কাজ বন্ধ করা।

3️⃣এখন প্রশ্ন হতে পারে এর সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোন সম্পর্ক কি?

টেস্টোস্টেরন হরমোন এর সাথে সম্পর্ক কি?

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা অনেকেই সামনের দিকে ঝুঁকে পরে একে বলা হয় খারাপ ভঙ্গি আর ইংরেজিতে বলা হয় (BAD POSTURE)।আমাদের মেরুদন্ড,হরমোন,স্ট্রেস এর মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে।এজন্য আমরা যখন ঝুঁকে থাকি তখন কর্টিসল হরমোন তৈরি হয়।আমরা তো জানি যে আমরা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করি তখনও এই কর্টিসল হরমোন তৈরি হয়,সেই সময়ই এই কর্টিসল হরমোন টেস্টোস্টেরন হরমোনকে বৃদ্ধি হতে দেয় না।আর সোজা থাকার জন্য বাসার দেয়ালের সাথে আমাদের পিঠ আর মাথা লাগিয়ে হাত উপর নিচে করে ব্যায়াম করতে পারেন।তো মোট কথা হচ্ছে আপনি যেনো সোজা থাকতে পারেন।

4️⃣আপনি মনে করেন একদমই সূর্যের আলোতে না জাননা।সেই ক্ষেত্রে এই টেস্টোস্টেরন হরমোন সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে?

সূর্যের আলোতে না যাওয়ার সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর সম্পর্ক কি?

আসলে সকালের সূর্যের আলোতে থাকে ভিটামিন ডি।এই ভিটামিন ডি আর টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরির সাথে গভীর ভাবে সম্পর্কিত।এটি নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে।একটি গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে প্রতিদিন সূর্যের আলোতে ১ ঘণ্টা হাঁটলে পুরুষের দেহের টেস্টোস্টেরন হরমোন ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

5️⃣প্রতিদিন আমরা অনেক ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেছি,কিন্তু তার মধ্যে এমন কিছু প্রোডাক্টও আছে যাতে ক্ষতিকারক উপাদান থাকে।

কোন ধরনের উপাদান ব্যাবহার করলে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যায়?

এই ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করলেও আমাদের শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যায়।যেমন: প্লাস্টিকে থাকে BPA,কিছু শেম্পু বা ফেস ওয়াশে থাকে SLS , PARABENS,আবার কিছু পারফিউম বা এয়ার ফ্রেশনারে থাকে PHTHALATE।তো এই ক্ষেত্রে আমাদের প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচের জিনিস ব্যবহার করতে হবে।অবশ্যই শেমপু, এয়ার ফ্রেশনার বা ফেস ওয়াশ কিনার আগে দেখে নিতে হবে যেন এগুলোতে PARABENS,PHTHALATE এই ক্ষতিকারক উপাদান না থাকে।

ঘুমের সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর সম্পর্ক কি?

6️⃣বর্তমানে হাতে একটা ফোন আর নেট থাকলে মোটামুটি ঘুমের কথা আর মনে থাকে না।তো আপনি যদি এইরকম কাজ ক্রমাগত করতেই থাকেন তাহলে আপনাকে একটু সাবধান হতে হবে।কারণ মনে রাখতে হবে ঘুম আপনার শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তো আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হলো আপনাকে ঘুমানোর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে সকল ধরনের ডিভাইস থেকে দূরে থাকতে হবে।এর টানা ৫-৬ ঘণ্টা একটা শান্তির ঘুম দিতে হবে প্রতিদিন।

ব্যায়াম করলে কিভাবে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়?

7️⃣একটু ভেবে দেখবেন আপনি সারাদিনে কতটুক শারীরিক পরিশ্রম করেছেন?যদি অনেকে আছেন অনেক ব্যস্ত,তারপরেও কমপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য হইলেও মোবাইল বা ল্যাপটপ এই দুটি জিনিস পাশে রেখে একটু ব্যায়াম করবেন।বিশেষ করে পুশ আপ বা ওয়েটলিফিং করবেন।এই ১০ মিনিটের ব্যায়াম আপনার টেস্টোস্টেরন হরমোন অনেক বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

সিগারেট জাতীয় দ্রব্য কিভাবে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়?

8️⃣বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গেছে যে নিকোটিন আর অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য হরমোন তৈরিতে বাধাগ্রস্ত করে ফলে এটি শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়।তো এই খারাপ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে অন্তত আপনার নিজেকে জীবনে সুন্দর ভাবে বাঁচতে হলে।

পানি কম খাওয়া সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর সম্পর্ক কি?

9️⃣পানি কম খাওয়া এবং যেকোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে আপনার শরীরের থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমাতে সাহায্য করে।কারণ পানি কম খাওয়া এবং যেকোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে আমাদের দেহে কতিসল নামে একটি হরমোন রয়েছে সেটি বেড়ে যায়। আর এই কটিসল হরমোন বাড়া মানে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ কমে যাওয়া।এখন কথা হচ্ছে পানি না হইলে ঠিক মত পান করলাম কিন্তু দুশ্চিন্তা থেকে কিভাবে মুক্ত থাকব।হ্যা,এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ারও সম্ভবনা আছে।সেটার জন্য আপানাকে কিছু কাজ করতে হবে।সেগুলো হলো:ভালো মানুষদের সাথে মিসবেন,সোসিয়াল মিডিয়ায় না যাওয়া,নামাজ আদায় করেন আর আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন আপনি আপনার দুশ্চিন্তা থেকে তারাতারি মুক্ত হন।এই চারটি কাজ যদি আপনি করেন তাহলে আপনি আপনার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

ওষুধ এর সাথে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির/কমার কোনো সম্পর্ক আছে?

🔟নিউটন বলেছেন যে—যার ক্রিয়া আছে তার প্রতিক্রিয়াও আছে।তেমনি কোনো ওষুধের উপর বা কোনো রোগের জন্য কোনো ওষুধের উপর নির্ভর হয়ে পড়লে আপনার শরীর থেকে এগুলো টেস্টোস্টেরন হরমোন কমিয়ে দিবে।

এই কাজ গুলোর সাথে যদি আপনি আপনার খাবারটা খাওয়া ঠিক রাখতে পারেন তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার শরীরের মধ্যে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

বোনাস:টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির সহজ উপায়

তাহলে এখন বলবো সেই খাবার গুলো নিয়ে যেগুলো আপনার খেলে টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ বাড়বে আর কোনগুলো খেলে ক্ষতি হবে।যেসব খাবার খাওয়া যাবেনা:ভাজা পোড়া খাবার,প্রসেস চিনি,কেক,অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার,ডায়েট সোডা।আর যেগুলো খেতে হবে:

পেঁয়াজ,ডিমের কুসুম,শাকসবজি,কলা,আম, বেদানা,নারিকেল,লাল মাংস, মাছ, ব্রকলি।

একটা কথা বলতে চাই টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে দেয়া একটি বড় নেয়ামত।আমরা আমাদের বাজে কাজের মাধ্যমে এই হরমোনের পরিমাণ কমিয়ে ফেলছি। ফলে আমরাই সমস্যাই পড়ছি।একটা বয়সে গিয়ে তখন কিন্তু এই টেস্টোস্টেরন হরমোন এর পরিমাণ বাড়ানো যায় না।তো সময় থাকতে এই আর্টিকেলটায় দেয়া কাজ গুলো শুরু করে দিন।তো আজকে এই পর্যন্তই।আল্লাহ হাফেজ সবাইকে।

পরবর্তীতে কোন বিষয়ে পোস্ট করবো জানাতে পারেন কমেন্ট বক্স এ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.