প্রতিটি ছেলে ও মেয়েকে আকর্ষণীয় করে তোলার সহজ বডি কেয়ার হ্যাকস

আপনাদের সবাইকে স্বাগতম আমাদের আজকের এই পোস্টটিতে ।আচ্ছা আপনি কি জানেন কম খরচে সহজ কিছু উপায়ে কিছু সহজ বডি কেয়ারের মাধ্যমে নিজেকে কিভাবে সবার কাছে আকর্ষণীয় করা যায়।আজকে আমি কারণ সহ আপনাদের ১০ সহজ টি বডি হ্যাক এর কথা বলবো যা আপনাকে একেবারেই পরিবর্তন করে দিবে।একটু দয়া করে আপনারা বিশ্বাস করুন যে এই ১০ টি টিপস আপনাকে একেবারেই পরিবর্তন করে দিবে।

•কনুই ও কাধেঁর দুর্গন্ধ দূরীকরণ:

আমাদের সবারই গায়ের অন্যান্য স্থান থেকে কনুই, ঘাড় কালো হয়ে থাকে।এটি হয়ে থাকে আমাদের শরীরের ঘর্ষণ, জেনেটিক, স্থূলতা এবং যত্নের অভাবে সহ নানা কারণে এইরকম হয়ে থাকে।কিন্তু আপনারা যদি আমার বলা একটি সহজ উপায় দিনে একবার ব্যবহার করেন তাহলে আপনার আর এরকম হবে না।এর জন্য লাগবে:২ চা চামচ কফি ও ২ চা চামচ নারিকেল তেল একসাথে মিশিয়ে মেখে আপনি যদি আপনার কনুই, ঘাড় বা কাধেঁ দেন এবং এটি ৩০ মিনিট ধরে লাগিয়ে গোসল করে ফেলেন তাহলে আপনার কনুই, ঘাড় বা কাধেঁর কালো দাগ ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।এই কফি আর নারিকেল ত্বকের মৃত কোষগুলোকে দূর করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃন করে।তো এটি আপনারা ব্যবহার করবেন।

•বেবি সোপ অথবা বডি ওয়াশ:

আপনারা দেখবেন যে শিশুদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাই তাদের জন্য তৈরি সাবান বা বডি ওয়াশে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না।এগুলো বলা যায় প্রায় পুরোটাই নেচারালভাবে তৈরি হয়ে থাকে। তাই আপনি একবার বডি সোপ বা বেবি ওয়াশ ব্যবহার করে দেখতে পারেন যা আপনার ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে।আর এটা আপনি আপনার প্রতিদিনের গোসলে ব্যবহার করতে পারেন।

•গোসলের আগে অয়েল মেসেজ:

অনেক আগে থেকেই মানুষ বুঝে হোক বা না বুঝে তারা গোসলের আগে গায়ে তেল মালিশ করে আসছে।আর আপনি জেনে অবাক হবেন যে গোসলের আগে গায়ে তেল মালিশ করা এই উপায়টার উপকারিতা অনেক বেশি।এজন্য কিছুটা তিলের তেল বা নারিকেলের তেল বা সরিষার তেল সামান্য পানিতে গরম করে নিতে হবে।এরপর আপনি এমনভাবে তেল মালিশ বা মেসেজ করবেন যেনো তা হার্টের দিকে থাকে।যেমন যদি আপনি হাতের মেসেজ করেন তাহলে আপনাকে হাতের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত মেসেজ করতে হবে।আবার যদি গলায় মেসেজ করেন তাহলে গলায় উপর থেকে নিচের দিকে কারণ হার্ট আপনার গলার নিচের দিকে হয়।পায়ের তলায় আর পেটের নাভিতে অবশ্যই তেল মেসেজ করবেন কারণ এই জায়গায় শিরা উপশিরা যুক্ত থাকে।এর উপকারিতা হচ্ছে এতে চামড়া টানটান থাকে, রক্ত প্রবাহ, চামড়ার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।এটি আপনাকে ১৫ দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ৩০ মিনিটের জন্য করলেই হবে।

•ঠাণ্ডা চামচ ডার্কসার্কেলের জন্য:

চোখের নিচের ত্বক খুব পাতলা হওয়ার কারণে দ্রুত এর উপর ডার্কসার্কেল ও ভাঁজ পড়ে যায়।এজন্য প্রতিদিন ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা ২টি স্টীলের চামচ দুই চোখের নিচে কিছুক্ষণের জন্য রাখলেই হবে।প্রথমে আপনাকে হালকাভাবে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য এটি ধরতে হবে।তারপর আস্তে আস্তে এটি ঘুরাতে হবে।ঠাণ্ডা ২টি স্টীলের চামচ দুই চোখের নিচে কিছুক্ষণের জন্য রাখলেই সেখানে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। ফলে ওই জায়গাটি উজ্জ্বল হবে।যদি সেখানে ভাঁজ বা ফোলা থাকে তাহলে সেটাও চলে যাবে ইনশাল্লাহ।

•অয়েল পুলিং:

আপনি যদি ইউটিউবে গিয়ে অয়েল পুলিং এর সুবিধা লিখে সার্চ দেন তাহলে আপনি ওই ভিডিওগুলো দেখে অবাক হয়ে যাবেন।কিন্তু কথা হচ্ছে অয়েল পুলিং জিনিসটা কি?সাধারনত নারিকেল তেল ১-২ চা চামচ নিয়ে মুখের ভিতর নিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে কিছুটা কুলি করার মতো করাকে অয়েল পুলিং বলে।এক্ষেত্রে অয়েল ম্যাগনেট হিসেবে কাজ করে।যেমন ম্যাগনেট সব কিছু টেনে নেয় তেমনি অয়েলও আমাদের গালের ভিতরে থাকা সব টক্সিনগুলোকে টেনে বের করে নেয়।এতে করে দাঁত সাদা হয়,মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় বলা যায় পুরো শরীরের জন্য উপকারী হয়।এটা প্রথম প্রথম করতে একটু খারাপ লাগে কিন্তু এটি করতে করতে ঠিক হয়ে যায়।এটি আপনি সপ্তাহে ১ করবেন আপনারা যদি চান ২ দিনও করতে পারেন।আবার এটির বার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।তো এতে কোনো চিন্তার বিষয় নাই।

•স্ক্রাবার:

আমাদের কোষে প্রতিদিন মৃত কোষ জমা হয়।এখন এগুলোকে যদি আমরা সরিয়ে না দেই তাহলে এগুলো আমাদের ত্বককে কালো করে দেয়।এর জন্য শুধু সাবান ও হাত দিয়ে পরিষ্কার জরুরি না।এর জন্য সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ১ দিন স্ক্রাবার দিয়ে আর সাবান দিয়ে পুরো শরীর পরিষ্কার করতে হবে।এতে করে দেহের মৃত কোষগুলো মরে যাবে আর ত্বক আরো সতেজ ও সুন্দর হবে।

•চুল ও মুখের জন্য টক দই:

টক দই এই ভিতরে রয়েছে প্রোটিন,ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি।আর সাথে আছে ত্বক ও চুল মসৃণ করার উপাদান। তাই সপ্তাহে বা ১৫ দিনে পুরো মুখে বা চুলে ১৫-২০ মিনিট ধরে টক দই লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।এতে করে আপনার ত্বক আরো সুন্দর ও চুলকে খুসকি,উকুন ইত্যাদি জীবাণু থেকে রক্ষা করে।

•গোসলের পর নখ কাটা:

গোসলের পর পানিতে ভিজে আমাদের নখ অনেক নরম হয়ে থাকে আর তখনই আমাদের নখ কাটা উচিত।আপনি জানেন যে শক্ত নখ কাটার থেকে নরম নখ কাটার উপকারিতা কতটুকু।

 •চোখ পরিষ্কার:

আপনার চোখ যদি ঘোলাটে থাকে বা চোখে ক্লান্তি থাকে তাহলে কি দেখতে ভালো লাগে বলেন?অবশ্যই না। তাই ২-৩ ঘণ্টার অন্তর চোখকে চার্জ দিতে হবে।কিভাবে কি আপনি জানেন?সেই জন্য আপনাকে প্রথমে মুখে পানি নিয়ে রেখে তারপর চোখে পানির ঝাঁপটা মারতে হবে।এতে করে পুরো চোখ সুন্দর হয় আর চোখের ভিতরে ময়লা গেলে পরিষ্কার হয়ে যায়।এইটা আপনারা দয়া করে বাসায় করবেন। আশা করি আপনি একটি ভালো ফলাফল পাবেন।

•স্পেশাল ব্যায়াম:

একটা কথা মনে রাখতে হবে আমাদের ব্লাড ফুলার যত বেশি ভালো হবে আমাদের চামড়া তত বেশি সতেজ ও সুন্দর থাকবে।আর এজন্য প্রতিদিন ৫ মিনিট এর জন্য পুশ আপের মত করে মাজাটা উপরের দিকে রাখলে আমাদের ব্লাড সার্কুলেশন ভালোভাবে 
হবে আর আমাদের ত্বক মসৃণ ও সুন্দর হবে।আর যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন তাদের জন্য এটি না করলেও চলবে।কারণ আপনি যখন রুকু ও ব্যায়াম করেন তখন অটোমেটিকলি এই ব্যায়াম হয়ে যায়।
এই ছিল আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনারা যদি সম্পূর্ণ পোস্ট টি পড়েন এবং কাজ গুলো ভালোভাবে করতে পারেন তাহলে আমি আসা রাখছি আপনাকেও দেখতে আরো স্মার্ট এবং কুল লাগবে।আমি সম্পূর্ণ আশা রাখছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনি কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছেন।আজকের মত এখান থেকেই বিদায় পরবর্তীতে কোন বিষয়ে পোস্ট করবো টা জানাত  পারেন আমাদের কমেন্ট সেকশন এ ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.