আপনার কর্মরত জীবনের জন্য সেরা কিছু প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশন

 আমাদের এই কর্মরত জীবনে অনেক রকমের কাজ করতে হয়।দৈনন্দিন জীবনের এই কাজ গুলোকে যদি সংগঠিত করা যায় তাহলে অনেক কাজই অনেক সহজ ও অল্প সময়ে হয়ে যায়।তবে সংগঠিত ভাবে সকল কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের অ্যাপ বেবহার করে সহজেই দৈনন্দিন জীবনের এই সব কাজ সম্পূর্ণ করা যায়।আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা এই সব দরনের অ্যাপ সম্পর্কে জানতে পারবেন।তো চলেন শুরু করা যাক।

গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী বিদেশী ভার্চুয়াল দল এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।বিশ্ব জোড়া পৃথিবীব্যাপী তাদের প্রতিষ্ঠানকে কার্যতভাবে উপস্থাপন করেছে।যেহেতু বেশিরভাগ টীমই দূর থেকে কাজ করসে তাই প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য কার্যত টিম ম্যানেজমেন্ট করাটা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।এই কার্যত দল সারাও টীম এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাটা প্রকল্পের ডেথলাইন এর ক্লায়েন্টের সাক্ষাৎ করার ক্ষেত্রে টীম ব্যবস্থাপনা করা প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশ কার্যকরী একটি টুল হতে পারে। এসারা টীম মেম্বারদের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র মেম্বার এর কাজ পর্যবেক্ষণ এর ক্ষেত্রে দক্ষতা মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে টীম ব্যবস্থাপনার অ্যাপটি বেশ সহায়ক হিসেবে কাজ করে এটা বলা যায়।বিশ্বব্যাপী ৫০ মিলিয়ন ইউজার নিয়ে (Trello) টীম ব্যবস্থাপনা অ্যাপ গুলোর মধ্যে অন্যতম অ্যাপ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।Trello বেবহার করে খুব সহজেই টিম এর মেম্বারদের মধ্যে প্রজেক্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রজেক্টের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এমনকি খ্যাতিমান কাজগুলোও করা যায়।বর্তমানে Trello এর মত এমন সিমিলার অ্যাপ থাকলেও এর বৈশিষ্ট্য,চাক্ষুষ প্রতিস্থাপনা বেশ বিশ্বাসী।৫ থেকে ১০ জনের ছোট টীম ম্যানেজ করা থেকে শুরু করে একটি বড় টীম ম্যানেজ করার জন্য ট্রেলার ভিত্তিক ফ্রী ফিচার গুলোই যথেষ্ট। এসারা বাড়তি স্টরেজ সুবিধা সহ কিছু আগাম ফিচার এর জন্য ট্রেলারের অর্থপ্রদান সাবস্ক্রিপশন কিনারও উপায় আসে।প্রদত্ত সাবস্ক্রিপশন এর জন্য প্রতি ইউজার এর জন্য মাত্র মাসে ৫ ডলার থেকে শুরু করে ১৭.৫ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি

Trello সারাও Meistertask , asana , lockify , Infinity অ্যাপ গুলোর মাধ্যমেও কোলাবেরিটি টীম গুলোকে ম্যানেজ করা যায়।ভার্চুয়াল দল এর মেম্বাররা বিন্য ভিন্ন জায়গা থেকে কাজ করায় প্রায় সেই যোগাযোগে ফাঁক পড়ে যায় যা কাজের ক্ষেত্রে বেশ নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। করোনার সময় লকডাউন এর কারণে কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেল এর অভাবে অনেক ভুগেছে।যদিও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এর যুগে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই তাদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ বা সফটওয়্যার বেবহার করে থাকেন।কিন্তু একেকজন একেকদরণের অ্যাপ ব্যবহার করায় প্রায় যোগাযোগে ফাঁক পড়ে যায়।টীম এর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এর মাধ্যমে বুদ্ধি এবং জ্ঞান শেয়ার এর মাধ্যমে কাজের দক্ষতা ও বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সবাইকে একই প্ল্যাটফর্ম এর আওতায় নিয়ে আনতে টীম যোগাযোগ অ্যাপ গুলো বেশ কার্যকরী।দৈনিক ১২ মিলনের বেশি এক্টিভ ইউজার নিয়ে টিম কলাবেরেশন এর জন্য (slack) অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম।অ্যাপটিতে মেসেজিং , অডিও, ভিডিও কলের পাশাপাশি অন্যান্য প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ Cloud স্টোরেজ Note taking অ্যাপ এর সাথে কথা বলার সুযোগও রয়েছে।slack এর ফ্রী ভার্সনে লিমিট ফিচার থাকলেও ছোট বড় যেকোনো টীম এর মধ্যে যোগাজগের জন্য এটি বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।তবে এক্সট্রা ফিচার ও কার্যকারিতা এর জন্য ফিচার এর উপর ভিত্তি করে slack বেশ কয়েক দরনের পেইড অপশনও অফার করে থাকে।পেইড ভার্সনে প্রতি ইউজার এর জন্য মাত্র মাসে ৭ ডলার থেকে ১২.৫ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে প্ল্যাটফর্মটি।slack সারাও Microsoft team , Rock , Discord , Chanty অ্যাপগুলোও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এ বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

বর্তমান এই করণার সময়ে ইন্টারনেটে ভিডিও কনফারেন্স এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে।তবে আগে থেকেই টীম এর সবার মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স এর কথা যোগাযোগের পাশাপাশি গুরুত্তপূর্ণ মিটিং পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ বেবহার করা হচ্ছে।এ ক্ষেত্রে (skype) সহ আরো বেশ কয়েকটি অ্যাপ আসে।বর্তমানে ৩৩০ মিলিয়নের বেশি এক্টিভ পার্টিসিপেনটস নিয়ে (Zoom) অ্যাপটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।বিভিন্ন দরনের প্রতিষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্স এর জন্য এই Zoom অ্যাপটি খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে।ভিডিও কনফারেন্স এর বিভিন্ন কাজ করতে Zoom এর ফ্রী ভার্সনই যথেষ্ট।Zoom অ্যাপটি বেবহার করে সর্বোচ্চ ১০০ জন মানুষ ৪০ মিনিটের জন্য ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে।তবে অ্যাপটির পেইড ভার্সনে ক্লাউড রেকর্ডিং ১০০ এর বেশি পার্টিসিপেন্টস রেকর্ডিং এর প্রতিলিপি পর্যন্ত পাওয়া যায়। ছোট টীম এর জন্য মাসে ১৫ ডলার থেকে শুরু করে ছোট ও বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে Zoom অ্যাপ।এই Zoom সারাও ১৪৫ মিলিয়ন এক্টিভ ইউজার নিয়ে (Microsoft teams) ভিডিও কনফারেন্স এর জন্য একটি অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ। এসাড়াও (Google Meet) , (slack) এর মত অ্যাপগুলোও ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।তবে 1 2 1 ভিডিও কনফারেন্স এর জন্য (Google Meet) বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখা বা পরে পড়ার জন্য Note অ্যাপ গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কম্পিউটার , ট্যাব , স্মার্ট ফোনে বেবহার করার সাথে সাথে নোট করার অভ্যাস এর নেই।কাগজ কলমে লিখে রাখলে এগুলো অনেক সময় হারিয়ে যায়।আবার এগুলো সব সাথে নেয়াও সব সময় সম্ভব হয়না।প্রায় সব কাজের ক্ষেত্রে এই নোট অ্যাপ বেবহার করলে এটি সবার জন্য অনেক উপকার হয়।(Evernote) এমনই একটি নোট করার অ্যাপ যা নোট করার পাশাপাশি অডিও ক্লিপ , ভিডিও , পিডিএফ , হতে লেখা কাগজ গুলো স্ক্যান করা এবং কনভারসেশন রেকর্ড করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

এসারা এই অ্যাপ এর মাধ্যমে ডকুমেন্ট স্ক্যান , ছবি তোলা , রেকর্ড অডিও , ছবি আঁকা , গুগল ক্যালেন্ডার এর সাথে কানেক্ট করে কত তারিখ আজকে সেই নোটিফিকেশনও অন করে জানা যায়। এসারাই যেকোনো ডিভাইস থেকে লগইন করে অ্যাকসেস পাওয়া যায় ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নোট হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।বেসিক নোট টেকিং এর জন্য অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচারগুলো বেসিক্যালি প্রফেশনালদের জন্য যথেষ্ট হলেও অতিরিক্ত ফিচারস এর জন্য পার্সোনাল এবং প্রফেশনাল পেইড সাবস্ক্রিপশনও রয়েছে অ্যাপটিতে।পার্সোনাল ব্যাবহারের জন্য মাসে ৮ ডলার থেকে শুরু করে ১০ ডলার এর প্রফেশনালদের জন্য সাবস্ক্রিপশন অফার করসে এই Evernote অ্যাপটি।

সঠিক সময়ে এবং বিন্ন পথে কোনো পূর্ণ করার জন্য (To-do list) বেশ সাহায্যকারী একটি অ্যাপ।আমরা অনেক সময়েই আমাদের কাজগুলোকে একটি লিস্ট করে থাকি সহজভাবে করা সম্ভব মনে হলেও সঠিকভাবে সংগঠিত করার উপায় না থাকায় অনেক কাজই অনেক সময় সম্পূর্ন হয় না। যার ফলে শেষ তারিখ মিস হয়ে যায়।কিন্তু (To-do list) এর বিভিন্ন ফিচার গুলো এই দরনের অ্যাপ গুলো আপনাকে গোল্ড পেতে সহজ্জ্ব করবে।প্লেস্টোর এ বিভিন্ন দরনের To-do list থাকলেও ফিচার ও কার্যকারিতার দিক থেকে Any.do আর Todoist বেশ জনপ্রিয় দুটি টাস্ক ম্যানেজার অ্যাপ।Any.do তে টাস্ক লিস্ট করার পাশাপশি ডেইলি প্ল্যানার , ক্যালেন্ডার ম্যানেজমেন্ট , রিমাইন্ডার অপশন সিলেক্ট করা যায়। এসারা অ্যাপটির প্রিমিয়াম ফিচার এ রিপিট কাজের রিমাইন্ডার , হোয়াটসঅ্যাপ রিমাইন্ডার , লোকেশন রিমাইন্ডারও সেট করা যায়।প্রিমিয়াম ফিচার বেবহার করার জন্য অ্যাপটি মাসে ৩ ডলার থেকে ৬ ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে।আর Todoist তাদের ইউজারদের কাজের উপর বেশ ফোকাস রাখতে সাহায্য করে। এসারা ক্যালেন্ডার আর টাইম এর দিক থেকে Tick Tick অ্যাপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। থার্ড পার্টি ডেভেলপারদের পাশাপাশি Google Task , Microsoft To do অ্যাপ গুলোই ইউজারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।পরবর্তীতে কোন বিষয়ে পোস্ট করা যায় জানাতে পারেন আমাদের কমেন্ট বক্স এ।তাহলে আজকে এইখান থেকেই বিদায় জানাচ্ছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.