imo কিভাবে উপার্জন করে?

 

আজকের বিষয় হচ্ছে একটি সোসিয়াল মিডিয়া অ্যাপ।সেই সোসিয়াল মিডিয়ার অ্যাপটির নাম হচ্ছে (imo)।

১)imo অ্যাপটি কি?

imo হচ্ছে অডিও ও ভিডিও কলের জন্য ফ্রী একটি মাল্টি প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ।বিবিসি নিউজ এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর ১৫০ টিরও বেশি দেশের ২০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এই imo অ্যাপটি ব্যবহার করে। যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য imo অ্যাপটি বেশি ব্যবহার করা হয় বলে এই দুটি দেশ imo অ্যাপটির সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।বর্তমানে এই অ্যাপটি ২০ টি ভাষায় ব্যবহার করা যায়।এক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০২০ সালে ৯৬ বিলিয়ন মেসেজ এবং ভিডিও ও অডিও কল করা হয় এই অ্যাপটির মাধ্যমে।যদিও imo তে সাইন আপ এবং অডিও ভিডিও কলের মতো বেসিক সার্ভিস ব্যবহারের জন্য কোনো চার্জ করা হয় না।

২)কিভাবে এই imo অ্যাপটির সৃষ্টি হয়?

২০০৫ সালে একেন থুগিয়াস আর জর্জ হেরিকেলের হাত ধরে ইউএসএ এর কেলিফর্নিয়াতে প্রতিনিয়ত ব্যবহারের জন্য এই imo নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তারা তৈরি করে।এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকে জর্জ হেরিক গুগলে কাজ করেছিলেন এবং রেলফ হেরিক ওরাকেলে কর্মরত ছিলেন। গুগলে থাকাকালীন জিমেইল,পিকাসা,গুগল টক,গুগল এডসেন্স এবং গুগল অ্যাডওয়ার্ড এর মত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে জড়িত থাকার ফলে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলো বেশ উন্নত হয়েছিল। গুগলে চাকরির জন্য জর্জে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন।আর তিনি তার ভাইকে উৎসাহিত করে একটি ইউজার ইন্টারফেস এর অধীনে মাল্টি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে সক্ষম এমন একটি ওয়েবপেজ অ্যাপ উন্নত করতে।সেই সময় মেসেজিং অ্যাপগুলো শুধু উইন্ডোজ এবং মেক এই দুটির জন্য উন্নত করা হত। ফলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ইউজাররা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের সার্ভিসগুলো অ্যাকসেস করতে পারতো না।মূলত অপারেটিং সিস্টেম যাই থাকুক না কেনো ইউজাররা যেনো একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সকল ধরনের ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন সেই জন্য imo কে একটি ওয়েব ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উন্নত করা হয়েছে।এই অ্যাপটিতে ফেসবুক মেসেঞ্জার,ইয়াহু মেসেঞ্জার, গুগল টক,স্কাইপ এর মত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।২০১০ সালে ১০.৩ মিলিয়ন ইউএসডি এর সিরিজ এ তহবিল এবং ২০১৩ সালে জর্জ হেরিকের কাছ থেকে ১৩.৩ মিলিয়ন ইউএসডি এর সিরিজ বি তহবিল পায় imo।একই বছরে imo একটি ব্রডকাস্টিং ফিচার বের করেছিল imo যেখানে একটি নির্দিষ্ট জিওগ্রাফিকাল লোকেশনের মধ্যে থাকা ইউজাররা একে অপরের সঙ্গে পাবলিকলি চ্যাট করতে পারে।২০১৩ সালের মধ্যে imo দৈনিক ৫০ মিলিয়ন মেসেজ,৭,৫০,০০০ ভিসিটর,৭ মিলিয়ন ডাউনলোডের রেকর্ড করেছে।পরের বছর imo একটি মাল্টি প্ল্যাটফর্ম ভিডিও কলিং সার্ভিস চালু করে।যদিও ২০১৪ সালের মার্চ মাসে imo সকল থার্ড পার্টি মেসেজিংয়ের সার্ভিসগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।আর নিজেরা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এবং ইনস্ট্যান্ট কলিং ফিচারের দিকে গুরুত্ব দিতে থাকে।২০১৮ সালে কোম্পানিটি ৫০০ মিলিয়ন ডাউনলোডের রেকর্ড অতিক্রম করে। জুমইনফো এর মতে ২০২১ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী ৫.৯ মিলিয়ন ডলার ইনকাম করেছে।১৪ বছরের যাত্রায় imo ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং ও কলিংয়ের পাশাপাশি গ্রুপ কলসহ ফাইল ট্রান্সফার করার সুযোগ দিচ্ছে।imo তে সর্বোচ্চ ১০ জিবি ফাইল ট্রান্সফার করা যায়।একটি মাল্টি প্ল্যাটফর্ম ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং হিসেবে imo ধীরে ধীরে একটি সোসিয়াল মিডিয়াতে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করছে। জেকরুম ফিচারটির মাধ্যমে imo একই দেশের ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে থাকা ইউজারদের সাথে অন্যদের কানেক্ট করে দিচ্ছে যা imo এর মত প্রতিযোগিতাকারি প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারের মত প্ল্যাটফর্ম থেকে imo কে ভিন্ন রকম করে তুলেছে। এছাড়া imo তে শিমিং ফিচারটির মাধ্যমে অনেকে আয়ও করতে পারছে। ইন্টারন্যাশনালি পেজবাইটস ইনক অপারেট করলেও পেজবাইটস মূলত সিংগুলারিটি আইএম এর একটি সহায়ক। ইউএস এর সিকুরিটি এবং এক্সচেঞ্জ ফাইলিং অনুযায়ী সিংগুলারিটি আইএম হচ্ছে ওয়াই ওয়াই এর সহায়ক। ওয়াই ওয়াই ব্র্যান্ডটি হচ্ছে একটি চাইনিজ ইন্টারনেটের সার্ভিস দেয়া প্রতিষ্ঠান যা জয় অন্তর্ভূক্ত যেটি imo,Bigo Live এর মত আরো বেশ কয়েকটি ভিডিও করা,লাইভ করা,কম সময়ের ভিডিও করা এই প্ল্যাটফর্মগুলো অপারেট করে থাকে।বাংলাদেশে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের ক্ষেত্রে imo খুব জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্ম।এক তথ্য অনুযায়ী imo বিশ্বব্যাপী সাইড ট্রাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ে সেরা বাংলাদেশ।আরেকটি তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৩৭০ মিলিয়ন বার ডাউনলোড করা হয়েছে।আবার ২০২১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে imo এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বার ফ্রী কল, মেসেজিং,ভিডিও বা ছবি শেয়ার করা হয়।গ্রামীণফোনের চিফ ডিজিটাল অফিসার মিস্টার সোলায়মান আলমের মতে বাংলাদেশে imo এর এতটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে দুর্বল ইন্টারনেট এবং কম ডাটা খরচে স্মুথলি চালানোর সুবিধা।imo তে মেসেজ কাউকে পাঠানোর সময় খারাপ ইন্টারনেট হলেও খুব সহজেই অন্যের কাছে সেই মেসেজটি সাথে সাথে চলে যায়।বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট স্পীড বিশেষ করে গ্রামের ইন্টারনেট বেশ দুর্বল যার ফলে বাংলাদেশে এই imo প্লাটফর্মটির বেশ ইউজার রয়েছে। 

ইন্টারনেট থেকে আয় করার বিস্তারিত জানুন ।

৩)imo কিভাবে টাকা আয় করে?

imo মূলত চারটি জায়গা থেকে রাজস্ব আয় করে।যথা:

                 ১)ডাটা সেলিং

                ২) অ্যাডভার্টাইজিং

                ৩)প্রিমিয়াম সার্ভিস

                ৪)অ্যাপ – ক্রয়

অ্যাপ্লিকেশনটি কল লগ ডাটা,আইপি অ্যাড্রেস,কুকিজ,লোকেশন,চ্যাটিং হিস্টোরি,ইউজার সেটিং বা সমষ্টিগত ইউজার ডাটা যেমন:ডেমোগ্রাফিক সংখ্যা, লেনদেনের পরিমাণ, ইমেলের মত তথ্যগুলো সংগ্রহ করে।এই ধরনের তথ্য প্লাটফর্মটি বিভিন্ন থার্ড পার্টির কাছে বিক্রি করে।imo এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস হলো থার্ড পার্টি অ্যাডভারটাইজিং দেখানো।অন্যান্য সোসিয়াল মিডিয়ার অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মতোই imo তাদের প্ল্যাটফর্মে অ্যাড দিয়ে থাকে।এই বিজ্ঞাপনগুলো চ্যাট হিস্টোরি লিস্ট এবং অ্যাপের অন্যান্য স্থানে দেখানো হয়।বিজনেস,ব্র্যান্ড বা যে কারো জন্যই imo অ্যাড নামে আলাদা অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যা ব্যবহার করে imo ইউজারদের অ্যাড দেখানো যায়। অ্যাপ্লিকেশনটিতে কোনো ব্যাক্তি বা বিজনেস তাদের পণ্য বা সার্ভিসের লিংক যুক্ত করে দিয়ে টার্গেট অডিয়েন্স এবং বিজ্ঞাপনের জন্য বাজেট নির্ধারিত করতে পারে।imo ইউজারদের সাবস্ক্রিপশন ফি এর বিনিময়ে প্রিমিয়াম সার্ভিসও অফার করে থাকে।ইউজাররা প্রিমিয়াম সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন করলে ২৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ এবং নো অ্যাড সার্ভিসের মত সুবিধা উপভোগ করতে পারবে।imo ইউজারদের বিভিন্ন মেয়াদের সাবস্ক্রিপশন ফি যেমন: ১ মাসের প্রিমিয়াম সার্ভিসের জন্য ১ ডলার এবং ১ বছরের জন্য ১০ ডলার পে করতে হবে।সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াও imo তাদের ইউজারদের জন্য বিভিন্ন ভার্চুয়াল আইটেমও যুক্ত করেছে।ইউজাররা ইন অ্যাপ – ক্রয়ের মাধ্যমে ডায়মন্ড কিনতে পারেন।পরবর্তীতে imo এর প্রিমিয়াম সার্ভিস,প্রিমিয়াম স্টিকার অথবা অন্য কোনো ইউজারকে গিফট পাঠাতে এসব ডায়মন্ড ব্যবহার করতে পারেন।imo প্রধানত তাদের প্লাটফর্মটিতে ক্রমাগত নতুন নতুন ফিচার যোগ করে চলছে।২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ‘প্লে টুগেদার’ নামে একটি নতুন ফিচার যোগ করে।এই ফিচারের মাধ্যমে একজন মানুষ তার পরিবার বা বন্ধুদের সাথে যে কোনো জায়গায় থেকে একসাথে খেলতে পারবে।অন্যান্য অ্যাপ থেকে imo এর একটি বড় সুবিধা হলো অ্যাপটিতে আছে সহজ ইউজার ইন্টারফেস।আর ইউজাররা খুব সহজেই একে অপরের সঙ্গে কানেক্ট হতে পারে বলে সোসিয়াল মিডিয়া হিসেবে অ্যাপটি এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছে।

তো আজকের এই আর্টিকেলটা আপনাদের ভালো লেগেছে।আপনারা imo নিয়ে বিস্তারিত সব জেনে গেছেন।আপনাদের এই আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।আজকে এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল।আল্লাহ হাফেজ সবাইকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.