ভিপিএন কি? ভিপিএন কিভাবে টাকা উপার্জন করে?

ভিপিএন দ্বারা মূলত ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বুঝানো হয়। দীপেন কে আপনি আরো সংক্ষেপে বলতে পারেন যে আপনি আপনার নিজের ডাটা এক্সেস না দিয়ে কোন কিছু ব্রাউজ করছেন যেটাতে আপনার ডাটা প্রয়োজন হতো।

 •(ভি পি এন)  কি?

ভি পি এন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক হলো পাবলিক নেটওয়ার্কে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদানের জন্য একটি এনক্রিপ্ট করা সংযোগ যার মাধ্যমে ইউজার নিজের পরিচয় গোপন রেখে ইন্টারনেট অ্যাকসেস করতে পারে।এতে করে কোনো থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ইউজারের ইন্টারনেট অ্যাকটিভিটি খুঁজে পেতে অক্ষম হয়ে থাকে বা ট্রেক করতে পারে না। ভি পি এন এর আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ইউজারদের ব্লক ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট দেখার সুযোগ করে দেয়। সারফশারক এর ডাটা অনুযায়ী ৩১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বর্তমানে বিভিন্ন সাইট ও কন্টেন্টের অ্যাকসেস সংযোগ ও সিকিউরিটির জন্য ভি পি এন ব্যবহার করে।বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি নিয়ে সচেতন হচ্ছে যার ফলে ইউজারদের মধ্যে ভি পি এন ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়ে গেছে।কিন্তু ইন্টারনেটের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ঠিক রাখতে ব্যবহৃত ভি পি এন সফটওয়্যারগুলো নানা ভাবে আয় করে।

• (ভি পি এন) এর তৈরি হয়েছে কিভাবে?

এই ভি পি এন এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সাল থেকে।সেসময় মাইক্রোসফটের জন্য কর্মরত কিছু কর্মচারী Peer to Peer Tunneling Protocol বা (PPTP) ডেভেলপ করেPPTP মূলত একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মধ্যে একটি প্রাইভেট সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।শুরুর দিকে ভি পি এন শুধুমাত্র ছিল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের গভর্নমেন্ট কোনো খোলা উৎস থেকে বিভিন্ন ডাটা সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হত।সময়ের সাথে সাথে এই PPTP টেকনোলজির পিছনের বিষয়টির পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানের ভি পি এন উন্নত হয়েছে।PPTP এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেয়া হয়েছে 

ভি পি এন।বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ব্যবহার বড়ার সাথে সাথে ভি পি এন সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।এক তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে গ্লোবাল ভি পি এন মার্কেটে অনুমান করা হয়েছিল ৩৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।আরেকটি তথ্য অনুযায়ী মোট ভি পি এন ইউজারদের ৬২ শতাংশই পুরুষ মানুষ।আবার আরেকটি তথ্য অনুযায়ী

ভি পি এন ইউজারকারীর মধ্যে ৩৯ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর।ভি পি এন প্রধানত ২ টি ভাবে কাজ করে।সেই দুটি হলো:

  ১) ভি পি এন লোকেশন

  ২) ভি পি এন সার্ভার লোকেশন

ভি পি এন একজন ইউজারের নেটওয়ার্ক ট্রাফিক অন্য একটি সার্ভারে প্রেরণ করা হয় যা কয়েক হাজার মাইল দূরেও হতে পারে।যেই দেশ বা লোকেশনে সার্ভারটি পাঠানো হয় তা হলো ভি পি এন সার্ভার লোকেশন।অপরদিকে যে স্থানে প্রোভাইডার বা কোম্পানি রয়েছে সেটিকে বলা হয় ভি পি এন লোকেশন।

যখন কেউ তার নেটওয়ার্ক ভি পি এন এর সাথে সংযোগ স্থাপন করে তখন ইউজারের প্রেরণ করা ট্রাফিক কারো পক্ষেই অ্যাকসেস করা সম্ভব হয় না।এমনকি ইউজারের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারও তার ইন্টারনেট অ্যাকটিভিটি কোনো ভাবেই অ্যাকসেস করতে পারে না।বিশ্বজুড়ে 

ভি পি এন এর এটি জনপ্রিয়তার পেছনে কিছু কারণের মধ্যে ব্লক কন্টেন্টের অ্যাকসেস এবং ডাটা প্রাইভেসি অন্যতম।এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন লোকেশনে থাকা ব্রাঞ্চের সকল কর্মচারীদের একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ভি পি এন সার্ভিস ব্যবহার করে থাকে। রাশিয়া, চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কঠোর ইন্টারনেট নীতি পালন করা হয়।এসব দেশ থেকে অনেক ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট অ্যাকসেস করা সম্ভব হয় না।এসব দেশের ভি পি এন ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।২০২০ সালে ভি পি এন ব্যবহারকারীর ভিত্তিতে ৬১ শতাংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সবার শীর্ষে রয়েছে।এরপর ৪৫ শতাংশ নিয়ে ভারতের অবস্থান।অন্যদিকে পৃথিবীর শীর্ষ ১০ ভি পি এন ব্যবহারকারীর দেশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যেরই ৩ টি দেশ রয়েছে।যার মধ্যে সৌদি আরবের ভি পি এন ব্যবহারের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ।আরব আমিরাতের ৪২ শতাংশ এবং তুর্কির হচ্ছে ৪০ শতাংশ।বিশ্বের টোটাল ইন্টারনেট ইউজারের মধ্যে ৩১ শতাংশই কোনো না কোনো ভি পি এন সার্ভিস ব্যবহার করে থাকে।এছাড়া গ্লোবাল ইনডেক্সের এক তথ্য অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ডেক্সটপ ইউজার এবং ৬৪ শতাংশ মোবাইল ইউজার প্রতিদিনই এই ভি পি এন সার্ভিস ব্যবহার করছে। ডাটার প্রাইভেসির জন্য শক্তিশালী প্রটোকলের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে অনেক।৯৩ শতাংশ সাইবার নিরাপত্তাকর্মীরা ক্লাউড সিকিউরিটি নিয়ে বেশ সচেতন।২০২০ সালে মোট ৪.৯ বিলিয়নের বেশি প্রতারকের অ্যাটাক হয়েছিল।যার মধ্যে সরাসরি মানুষের সাইবার অ্যাটাকসহ বট ও মোবাইল অ্যাটাকও অন্তর্ভূক্ত। ৫০ শতাংশের বেশি ইউজাররা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় প্রাইভেসির নিরাপত্তার স্বার্থে ভি পি এন ব্যবহার করে থাকে। সিকিউরিটি ডট অর্গানাইজেশন এর মতে ২০২১ সালের কিছু সেরা রেটের ভি পি এন সার্ভিসগুলোর মধ্যে রয়েছে Express VPN, Nord VPN, IP VANISH ইত্যাদি।এছাড়াও Surfshark, Hotspot Shield, Private Internet Access

এর মত ভি পি এন সার্ভিসগুলো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

•কিভাবে (ভি পি এন) আয় করে?

২০১৬ সালে ভি পি এন সার্ভিস প্রোভাইডার গুলো ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করেছিল।অন্যদিকে ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ভি পি এন এর মার্কেট সাইজ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি যা ২০২৭ সালে ৭৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।শেষ পর্যন্ত ভি পি এন এর তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে শুধুমাত্র সেরা ১০ টি ভি পি এন সার্ভিসের অ্যাপের ক্রয়ের মাধ্যমে ২৩ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হয়। ভি পি এন প্রোভাইডাররা সাধারনত ধরনের সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আয় করে থাকে। যথা:

১)প্রিমিয়াম সার্ভিস
২)ফ্রীমিয়াম সার্ভিস

প্রিমিয়াম সার্ভিসের ক্ষেত্রে সার্ভিস প্রোভাইডাররা ইউজারদের সরাসরি সাবস্ক্রিপশন ফি চার্জ করে থাকে।

অপরদিকে ফ্রীমিয়াম সার্ভিসের ক্ষেত্রে সার্ভিস প্রোভাইডাররা ইউজারদের অ্যাড দেখানো এবং তাদের ব্যাক্তিগত সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব আয় করে।

Express VPN, Nord VPN কিংবা Private Internet Access এইসব ভি পি এন সার্ভিসগুলো মূলত ইউজারদের সাবস্ক্রিপশন ফিয়ের বিনিময়ে সেবা দিয়ে থাকে।প্রিমিয়াম ইউজারদের সাবস্ক্রিপশন ফি ভি পি এন প্রোভাইডারদের রাজস্বের মূল উৎস।পেইড ভি পি এন সার্ভিসগুলো ইউজারদেরকে আনলিমিটেড প্রাইভেট নেটওয়ার্ক অ্যাকসেসের পাশাপাশি শক্তিশালী ডাটা নিরাপত্তা, অ্যান্টিভাইরাস ও মেলওয়ার নিরাপত্তা এবং অ্যাড ব্লকিংয়ের মত বেশ কয়েকটি ফিচার দিয়ে থাকে।যার বিনিময়ে এসব সার্ভিস প্রোভাইডাররা মাসিক সাবস্ক্রিপশন চার্জ করে থাকে।পেইড ভি পি এন সার্ভিসগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভি পি এন ইউজারদেরকে লিমিটেড কিছু ফিচার ট্রায়াল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের পর সম্পূর্ণ অ্যাকসেসই বাতিল হয়ে যায়।এছাড়া ভি পি এন প্রোভাইডাররা বিভিন্ন ই-কমার্স বা বিজনেসের জন্য পেমেন্ট সিস্টেম করা এবং বেআইনি অ্যাকসেস থেকে প্রয়োজনীয় ডাটা বাঁচিয়ে রেখে দেয়ার জন্য সার্ভিসও দিয়ে থাকে।পেইড ভি পি এন ছাড়াও বাজারে আরো অনেক ভি পি এন আছে যেগুলো পেইড সার্ভিসের বিপরীতে লিমিটেড অ্যাকসেস ও ফিচারসহ ফ্রীতেই সার্ভিস দিয়ে থাকে।এই ধরনের ভি পি এন সার্ভিসগুলো ইউজারদের প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সেবার বিপরীতে ইউজারদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে রাখে।এক্ষেত্রে ভি পি এন সার্ভিসগুলো ইউজারদের ইমেইল আইডি, লোকেশন, যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি ইন্টারনেটে একজন ইউজারের হিস্টোরি, অ্যাকটিভিটি এবং আচরণ সম্পর্কিত সকল তথ্য কুকিস, ওয়েববিকেন, পিক্সেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে।পরবর্তীতে এসব ডাটা ভি পি এন সার্ভিসগুলো বিভিন্ন থার্ড পার্টির কাছে বিক্রি করে রাজস্ব আয় করে। থার্ড পার্টিগুলো ভি পি এন সার্ভিসগুলো থেকে এসব সংগ্রহ করে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করে ইউজারদের অনলাইনের আচরণ জেনে নেয় যা পরবর্তীতে অ্যাড প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে এডভার্টাইজিংয়ের জন্য বেশ কার্যকরী।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা ভি পি এন এর সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।আপনাদের এই আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।আজকে এই পর্যন্তই।পরবর্তীতে কোন বিষয়ে পোস্ট করবো টা কমেন্ট বক্স এ জানাতে একদম ই ভুলবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published.