ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কিভাবে টাকা উপার্জন করে?

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল যাকে সংক্ষেপে আইসিসি বলা হয়ে থাকে।আইসিসি মূলত বিশ্বের সকল দেশের ক্রিকেট খেলার পরিচালনা করে থাকে।তাদের এই সকল কার্যক্রম কিন্তু তারা কিভাবে এত টাকা উপার্জন করে অনেকের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এটা আমাদের আজকের এই পোস্ট তার বিষয় হলো আইসিসি কি?আইসিসি কিভাবে টাকা উপার্জন করে।

আইসিসি এর পূর্বের ঘটনা কি বা কিভাবে এই আইসিসি সৃষ্টি হলো?



•আইসিসি এর পরিচয় কি?

জনপ্রিয়তার দিক থেকে একশোটিরও বেশি দেশে প্রচলিত এবং ২.৫ মিলিয়ন ফ্যান নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা।আর বারোটি পূর্ণ সদস্য দেশ এবং চুরানব্বইটি সহযোগী দেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে আইসিসি (ICC) বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।ইংরেজিতে International Cricket Council।ক্রিকেটের সকল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের বিভিন্ন খেলা আয়োজন করা এবং খেলাটির পদের উন্নতির জন্য মেম্বার দেশগুলোর সাথে সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রণ করার সব কিছুই আইসিসি যোগাযোগ করে রাখে।

আরও পড়ুন – ইউটিউব শর্টস থেকে কিভাবে উপার্জন করবে?

বিশ্বের প্রথম টেস্ট খেলেছে এমন তিনটি দেশ হচ্ছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা সম্মিলিতভাবে ১৯০৯ সালে Imperial Cricket Conference বা রাজকীয় ক্রিকেট সম্মেলন প্রতিষ্ঠা করে।১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল নামে তাদের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে থাকে।বর্তমানে বারোটি পূর্ণ সদস্য এবং বিরানব্বইটি সহযোগী দেশসহ আইসিসি এর মোট সদস্য সংখ্যা ১০৬ টি।আইসিসি বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল একটি অলাভজনক সংস্থা যার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা, ক্রিকেটের উন্নয়ন তত্ত্বাবধান করা, ক্রিকেটকে প্রমোট করা থেকে শুরু করে ক্রিকেটের খেলা এবং মান উন্নত করার জন্য সদস্য দেশগুলোকে সাহায্য করে।এসকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থের প্রয়োজন পড়ে।আইসিসি মূলত আট বছরের আর্থিক চক্র অনুসরণ করে এবং বর্তমান এই চক্র শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে আর এটি শেষ হবে ২০২৩ সালে।প্রতিটি আর্থিক চক্রে আইসিসি এর সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেশ কিছু খরচ রয়েছে।যেমন ২০১৯ সালের আইসিসি মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করতে প্রতিষ্ঠানটির ১৩৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল।এই খরচের একটি বড় অংশ হিসেবে চলে গেলো হোস্ট দেশটিকে দেয়া হোস্টিং ফি হিসেবে।২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে হোস্টিং ফি হিসেবে আইসিসি এর কাছে থেকে একানব্বই মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করবে অস্ট্রেলিয়া।এছাড়া আইসিসি এর অন্যান্য খরচে মধ্যে রয়েছে ম্যাচ অফিশিয়াটিং ফি, কর্মী এবং পরামর্শদাতা সম্পর্কিত খরচ, বার্ষিক রাঙ্কিং পুরস্কার সম্পর্কিত খরচ ইত্যাদি।এসব খরচ পোষানোর জন্যই আইসিসি বেশ কয়েকটি মাধ্যমে রাজস্ব আয় করে থাকে।তবে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আইসিসি সকল জিনিস খরচ করে যে লাভ হয় তা সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে শেয়ার করে।বর্তমান চক্রে আইসিসি তাদের মেম্বারদের মাঝে ১.৭৭৪ বিলিয়ন ডলার বিতরণ করার পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটি ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আর্থিক চক্রে প্রাপ্ত মোট রাজস্বের সর্বোচ্চ ৪০৫ মিলিয়ন ডলার বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৯ মিলিয়ন ডলার ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে শেয়ার করে।অন্যদিকে পূর্ণ সদস্য জিম্বাবুয়ে পাবে ৯৪ মিলিয়ন ডলার।আর বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, সাউথ আফ্রিকাসহ বাকি ২ টি দলের সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের প্রত্যেকে পাবে ১২৮ মিলিয়ন ডলার করে।এছাড়া আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড
সহ বাকি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মাঝে ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়।রাজস্বের বাকি অংশ ক্রিকেটের বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত করতে এবং ক্রিকেটের প্রমোশনের পিছনে খরচ করা হয়।তবে কিভাবে তারা রাজস্ব আয় করে তা এখন জানবেন।

৩)বিশ্ব ক্রিকেটের উন্নতির জন্য নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে তাদের রাজস্ব আয় করে?

আইসিসি এর ইভেন্টগুলোর মধ্যে মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে। শুধুমাত্র ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ আর ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে আয়কৃত রাজস্ব ছিল ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজস্ব পিরিয়ডের ৬২ শতাংশ।অন্যদিকে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চলমান আর্থিক চক্রে ২.৫ থেকে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আইসিসি এর এসব ইভেন্ট থেকে আয় করা রাজস্ব উৎস বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে।আইসিসি এর বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে আয় করা রাজস্বের উৎসের সর্বোচ্চ অংশটি আসে ব্রডকাস্টিং করার মাধ্যমে।আইসিসি এর এসব ইভেন্টগুলি টেলিকাস্ট করার জন্য বিভিন্ন ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান বা মিডিয়াগুলোর কাছে ব্রবক্যাস্টিং অধিকার বিক্রি করা হয়।ব্রডকাস্টিং অধিকারের জন্য আইসিসি পার্টনারদের সাথে মূলত আট বছরের চুক্তি করে থাকে।২০১৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আর্থিক চক্রে আইসিসি স্টার স্পোর্টস কাছে দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ব্রডকাস্টিং অধিকার বিক্রি করেছে।২০০৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আর্থিক চক্রে এই ব্রডকাস্টিং অধিকার থেকে আইসিসি এর আয়ের পরিমাণ ছিল ১.১ বিলিয়ন ডলার।আইসিসি এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের উৎস হচ্ছে মূলত আইসিসি আয়োজিত ইভেন্টগুলির স্পন্সরশিপ যেমন:Dream 11, Coca-cola, Byju’s, oppo, Money gram, Nissan, Star sports ইত্যাদি।আইসিসি এর আর্থিক চক্রের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের স্পন্সরশিপ থেকে আইসিসি যথাক্রমে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার আর প্রায় ৫৫৮ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব উৎস করে থাকে।আইসিসি এর পার্টনার ব্র্যান্ডগুলোর ট্রফির নামের অধিকার এবং ইন স্টুডিয়াম ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি আইসিসি এর ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করেও নিজেরা নিজেদের মার্কেটিং করতে পারে।আইসিসি এর স্পন্সরশিপ
গুলোকে তিনটি পার্টনার্স ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যেমন:

১)গ্লোবাল পার্টনার্স
২)অফিসিয়াল পার্টনার্স 
৩)ক্যাটাগরি পার্টনার্স 

বড় দুটি রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি আইসিসি এর নন-ইভেন্ট স্পন্সরশিপ একটি অ্যাডিশনাল রাজস্ব উৎস।এই ধরনের স্পন্সরশিপ মূলত আইসিসি এর ক্যালেন্ডারে থাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ এবং বড় ইভেন্টগুলি কাভার করে থাকে।যেমন: সকল ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমিরেটস খেলার আম্পায়ারদের এবং গ্রেনিকলস খেলার জিনিসপত্র স্পন্সর করে।আইসিসি এর বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া রাজস্ব সদ্যস দেশগুলোকে লোন হিসেবে দিয়ে থাকে।আর প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্টমেন্ট করে থাকে।প্রতিষ্ঠানটি এসব লোনের ইন্টারেস্ট এবং ইনভেস্টমেন্ট অপশনগুলো থেকে তারা আয় করে।আইসিসি এর আর্থিক চক্রের একটি তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে ইন্টারেস্ট এবং ইনভেস্টমেন্ট ইনকাম থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৫.৭৮ মিলিয়ন ডলার।এছাড়াও আইসিসি এর কিছু নন ইভেন্ট রাজস্বের উৎস রয়েছে। যেমন:

১)ডিজিটাল ক্লিপস 
২)কমার্শিয়াল অ্যাকটিভিটি
৩)ম্যাচ ফাইনস

এসব নন ইভেন্ট রাজস্বের উৎস থেকে ২০২০ সালে আইসিসি এর রাজস্বের আয়ের পরিমাণ ছিল ৯.২৮ মিলিয়ন ডলার।আইসিসি এর ইভেন্টগুলি যেহেতু আইসিসি এর রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস তাই এই রাজস্ব সর্বাধিকীকরনের জন্য ইভেন্টগুলোকে আরো উন্নত করা এবং ২০২৪ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চক্রে এই ইভেন্টগুলোর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে আইসিসি।যার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে আমাদের এই আর্টিকেলটা।এই অ্যাক্টিকেলেরের মাধ্যমে আপনারা সুন্দরভাবে আইসিসি এর ভিতরের খবর জেনে গেছেন।সবাইকে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।আজকে এই পর্যন্তই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.