ইউটিউব শর্টস থেকে কিভাবে টাকা উপার্জন করবো?

ইউটিউব শর্টস থেকে কিভাবে অর্থ উপার্জন করবো

ইউটিউব শর্টস কি?

ইউটিউব শর্টস মূলত গুগলের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম।যেখানে ৫৫ সেকেন্ড পর্যন্ত ভিডিও আপলোড করা যায়।ইউটিউব শর্টস গুগলের হওয়ায় তারা নানা অ্যাডসেন্স এর সাহায্যে ইউটিউব শর্টস ভিডিও আপলোড কারিদের কিছু কিছু টাকা দিয়ে থাকে ।কিন্তু সেই ভিডিও গুলো মূলত চেহারা দেখিয়ে ভয়েস দিয়ে করা যায় ।কিন্তু আজকে আমরা এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো যেটা হলো কিভাবে ইউটিউব শর্টস এ ভয়েস কিংবা চেহারা না দেখিয়ে ভিডিও বানাইয়ে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করবে।

ইউটিউব শর্টস এ চেহারা না দেখিয়ে কিভাবে উপার্জন করা যায়?

তোমাকে না তোমার মুখ দেখাতে হবে না তোমাকে কথা বলতে হবে না তোমাকে কোনো ভিডিও রেকর্ড করতে হবে।খালি একটু মাথাটাকে খাটিয়ে সামান্য একটা বুদ্ধির উপায়ে শর্টস করে তুমি লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবে।কি হবে না মনে হচ্ছে?এই আর্টিকেলটা শেষ পর্যন্ত পর।আর এই ৩ টি পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনো ভিডিও শুট না করে, তোমার ভয়েস ব্যবহার না করে লাখ টাকা আয় করতে পারবে।

ওকে আর্টিকেলের শেষ পর্যন্ত পড়ে তুমি ৩ টি পদ্ধতি জেনেই যাবে কিন্তু ছোট করে বলতে গেলে এখানে আমরা ইউটিউব শর্টস আর ইউটিউব কমিউনিটি ট্যাব ব্যবহার করে লাখ টাকা আয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবো।তো প্রথমত আমি বলছিলাম যে আপনার মুখ অথবা আপনার কথা বা ভয়েস ব্যবহার করতে হবে না তাই এই ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করবো কিছু ক্লিপস আর টেক্সট।কিন্তু প্রশ্ন এটা যে দর্শকরা আমাদের মুখ বা ভয়েস ছাড়া সেসব শর্টস দেখবেই কেনো?

দর্শকরা মুখ না দেখে কেনো ভিডিও দেখবে?

এসব ক্ষেত্রে তোমাকে আমি বলে দেই যে এসব কন্টেন্ট আগে থেকেই ইউটিউবে আছে এবং ওইসব ভিডিওগুলো অনেক মানুষও দেখে।কিছু বড় বড় চ্যানেল যেমন হিন্দুস্তান টাইমস এর মত চ্যানেলও এই রকম ভিডিও ফেইসক্যাম বা ভয়েস ব্যবহার না করে অনেক ভিউ পেয়েছে।তো এর মার্কেট ইতিমধ্যে আগে থেকেই আছে।এর মানে এই নয় যে তুমি তোমার যে রকম ইচ্ছা ক্লিপস আর টেক্সট করে আপলোড করবা ভিডিও আর তোমার অনেক ভিউ উঠবে।তোমার যদি আসলেই ইউটিউব শর্টস বানিয়ে টাকা ইনকাম করতে চাও তাহলে তোমাকে আমাদের এই ৩ টি পদ্ধতিকে অনুসরণ করতে হবে।তো শুরু করা যাক ৩ টি পদ্ধতি নিয়ে।পদ্ধতি এক ও দুইয়ে নির্ভর করে তুমি তোমার শর্টস ভিডিওতে কিভাবে ভিউজ আনতে পারবে।আর পদ্ধতি তিন ব্যবহার করে তুমি কিভাবে টাকা আয় করতে পারবে?কিন্তু আমরা প্রথমে দেখবো কিভাবে মুখ না দেখিয়ে এবং কথা না বলে শর্টস ভিডিও বানাতে পারবো।

•পদ্ধতি-১

একটা অসাধারণ ব্যাখ্যা প্রস্তুত করতে হবে।এই ব্যাখ্যার আবার দুটি পার্ট আছে।প্রথম পার্টে তোমাকে একটা দুই থেকে তিন সেকেন্ডের তোমার চ্যানেলের একটা অস্থির ইন্ট্রো বানাতে হবে।মানে প্রথমে শুরুতেই আমাদের এমন লাইন বা টেক্সট দিতে হবে যা দেখে মানুষ শর্টসটাকে স্কিপ না করতে চায়।

•পদ্ধতি-২

 দ্বিতীয় পার্ট হবে ওই ইন্ট্রো হুককে ন্যায্যতা করে।এর মানে মানুষদের গুরুত্ব দেয়া।তো সব ডিটেইলে বুঁজবেন।কিন্তু প্রথমে আপনাকে Invideo.io সার্চ করে invideo কে খোলো যেখানে আমরা ইউটিউব শর্টস আসলে বানাবো।এখানে অনেক টেমপ্লেট আর অনেক কিছু আছে।তুমি এটার সাহায্যে একটি ভিডিওকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো এডিটও করতে পারবে।কিন্তু আমাদের কাজ হচ্ছে এখন একটি ভাইরাল শর্টস বানানো।এজন্য আমাদের যেতে হবে প্রথমে মাঝখানের অপশনে।কারণ যত শর্টস হবে পর্টেড মোডে হবে।আমরা 9S216 এর এসপেক্ট রেশিও নিবো।এখন একটু নিচে স্ক্রল করতেই তোমার সামনে অনেক অনেক টেমপ্লেট আসবে।তুমি তোমার ইচ্ছা মত যে টেমপ্লেট ইচ্ছা সেটা নিতে পারো।কিন্তু আমরা আগে থেকেই একটা টেমপ্লেট সিলেক্ট করে নিয়েছি।এইটাই ক্লিক করে আবার ওই 9S216 রেটিও নিয়ে আমরা ইউস টেমপ্লেট বাটনে ক্লিক করবো।এখন শুরু হবে আসল কাজ।তো কোনো এডিট না করে টেমপ্লেট কিছুটা এরকম দেখতে হবে।

কিন্তু আমরা এখানে অনেক কিছু এডিট করতে হবে।তারপরই আমাদের শর্টস ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে।তো হবে এমন যে তুমি যে লাইন এখানে লিখবে সেগুলো এক এক করে সব মানুষ দেখতে পারবে।আর এই লাইন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।কারণ তুমি যদি অন্যান্য মানুষদের তোমার এই লাইনের মাধ্যমে মজা বা প্রয়োজন না দিতে পারো তাহলে মানুষ তোমার শর্টসকে স্কিপ করে দিবে।তো এখানে তুমি গুগলের সাহায্যও নিতে পারো।আর যা কিছু তুমি শিখছ ওগুলোও ব্যবহার করতে পারো।এরকম যে তুমি যদি সাধারণভাবে গুগল সার্চ করো তাহলে কিভাবে ১০০ পার্সেন্ট মার্ক পাবো স্কুলে

তখন তুমি দেখবে অনেক টিপস আসবে তোমার সামনে।তোমার কাছে যেটা ভালো লাগে সেরা লাগে সেটাকে তুমি সিলেক্ট করে নেও।সেইগুলো তুমি এখানে এসে লেখে দিও।সাবধান হতে হবে কারণ এখানে লেখা একটা একটা শব্দ বুজে শুনে লিখতে হবে।

এরপর এখন সময় হবে তোমার হেডিং দেয়ার।তুমি হেডিংয়ে যা লিখবে তা তোমার শর্টসের নাম আসবে।তখন এই হেডিং কি দিবে তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠে।তখন তোমাকে তোমার ভিডিও অনুযায়ী টাইটেল দিতে হবে।কিন্তু এমন টাইটেল দিতে হবে যা দেখে মানুষের তোমার শর্টস দেখার ইচ্ছা হয়,না দেখে শার্ট না পারে।যেমন আমি হেডিং দিবো স্কুলের পরীক্ষায় ১০০ পার্সেন্ট পাওয়ার উপায়।

কীভাবে ইউটিউব শর্টস থেকে বেশি ভিউ আনা যায়?

নিচে তখন আমাকে ভালো ভালো পয়েন্ট দিতে হবে।আর শেষের পয়েন্টে দিবো যে আপনারা আমার ভিডিওটিতে দয়া করে লাইক দিবেন।এটা একটা সাধারণ উদাহরণ।যদি তুমি তোমার শর্টসকে ভাইরাল করতে চাও তাহলে আরো ভাল ভাল উপায় আছে।যেমন: হেডিং দিতে পারো Three Secrets Carryminati Never Told You, Five Secrets BBK Vines Does Not Say You।এছাড়া তুমি বাংলায়ও দিতে পারো হেডিং।তো আমি বলছিলাম এখানে মুখ বা ভয়েস কিছু ব্যবহার হচ্ছে না তাই আসল খেলা হচ্ছে তুমি এই হেডিং আর এর পরের পয়েন্টগুলো কতটা ইউনিক লিখতে পারো।টেক্সট করার পর আমাদের শর্ট এখানে এসে পড়ে।

এখন আমরা যদি Advance Editor নামের অপশনে ক্লিক করে দেখি তাহলে আমাদের হেডিং কিছুটা এমন দেখাবে।যদি তুমি আমাদের আর্টিকেলটা পড়ে ঠিক করে বোঝো তাহলে তুমি বুঝে গেছো যে এখানে একটা বড় সমস্যা রয়েছে।

ইন্ট্রো ছোট হওয়ার বদলে এটা অনেক বড়।তাই একটু এডিট করে এটাকে একটু কেটে পাঁচ সেকেন্ড থেকে দুই সেকেন্ডের বানিয়ে দেই।তো আগের গুলাও এরকম বড় তাই আমি আমার মত করে শর্টস করার জন্য ছোট করে নেই। এতুটুক এডিট করার পর ভিডিওটা কিছুটা এরকম দেখাবে।তো তুমি যেমন দেখলে এখানে টেক্সট করছিলাম সেগুলো ওই ছবিগুলোর নিচে টেক্সটগুলো চলে আসলো একটা ভিডিও আকারে।এখানে তোমরা ছবিগুলো নিজেরা লাগিয়ে নিতে পারো না হলে এই ওয়েবসাইটের ভিতরেই এডিট করার সময় অনেক ছবি আসবে সেখান থেকে তোমার তেক্সটগুলো অনুযায়ী লাগিয়ে নিও।

আমি চাইলে কিন্তু প্রথমের ছবিটা বাদ দিয়ে আরেকটি ছবিও পড়ে লাগাতে পারি।এখানে একটা অসাধারণ অপশন আছে সেটা হচ্ছে Story Board।

সেখানে ক্লিক করলেই আমরা সেখান থেকে যে ছবি লাগাতে হবে সেটা লাগিয়ে দিতে পারবো।এটুক করার পরই সাথে সাথে এগুলো আমাদের কাছে আগের মত ভিডিও হিসেবে আসবে।খালি আগে যে ছবি ছিল সেগুলোর বদলে অন্য ছবি আসবে।এক হচ্ছে এই ক্লিপটির সাথে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে।দ্বিতীয় আমাদের টেক্সটটাও ঠিক করতে হবে সেটার জন্য এই ক্লিপের সাইজ ছোট করে নিবো যেনো লাইনগুলো ভিডিওতে যেনো পরিষ্কার বড় বড় দেখা যায়।তারপর নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী একটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সিলেক্ট করে নেই তারপর আমার এই শর্ট প্রস্তুত একেবারে।

তারপর Export অপশনে ক্লিক করে শর্টটাকে ডাউনলোড করতে হবে।এখানে একটা স্পেশাল অপশনও আছে তুমি চাইলে একই ভিডিওকে Land Scape মোডেও ডাউনলোড করতে পারো।তারপর ইউটিউবে একটা চ্যানেল বানিয়ে নরমাল ভিডিওয়ের মতো তোমার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে পারবে। এখান থেকে ফ্রীতে ডাউনলোড করলে এটার একটা ওয়াটার মার্ক থাকবে।তুমি এখন ফ্রীতেই ব্যবহার করো।ভিউজ আসলে টাকা পাবা আর সেই টাকা পাওয়ার পর সেগুলো দিয়ে কিনে ব্যবহার করো।

•পদ্ধতি-৩

তুমি যখন পদ্ধতি-১ ও ২ অনুসরণ করে ভিউজ আর লাইক পাওয়া শুরু করবে তখন আসবে তুমি আয় করবে কিভাবে?

ইউটিউব শর্টস এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করবো?

তুমি কিছু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যুক্ত হতে পারো।যেখান থেকে কমিশন পাবা।যেমন:তুমি যদি পড়ালেখার বিষয় নিয়ে কোনো শর্ট তৈরি করো তখন তুমি যদি সেখানে বই, পেন্সিল বা কোর্স করো তাহলে তুমি সেটার লিংক ঐখানে দিতে পারো।যদি তোমার ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে চ্যানেল হয় তাহলে তোমার খালি মজাই। কিন্তু কিভাবে?কালকেই আমি সাতেশ ভাইয়ের ভিডিও দেখলাম খালি ভালো প্রোডাক্ট পরিবর্তন করেই শর্টসের এক লাখ ভিউজ আর ৯০ হাজারের থেকে বেশি টাকা আয় করে।তুমি চাইলে স্পন্সরও করতে পারো।সেরা অপশন হবে তুমি যদি নিজের ই-বুক বানিয়ে সেটাকে বিক্রি করো।কিন্তু কথা একটা তুমি লিংক প্রোমোটেড করবা কোথায়?

অ্যাফিলিয়েট লিংক কোথায় প্রমোট করবো?

একটা শর্টসের ডিস্ক্রিপশনে লাগাতে পারি কিন্তু যেই ভালো পদ্ধতি মানুষ মিস করে সেটা হচ্ছে কমিউনিটি ট্যাব।যদি তোমার শর্টসে ভিউ আসে তাহলে তোমার কমিউনিটি পোস্ট পৌঁছানো সহজ হয়ে যাবে।তারপর সেগুলোকেও ব্যবহার করতে পারবে।তুমি যদি একটু বুদ্ধি খাটাও তাহলে এখন থেকেও আয় করতে পারবে।এই ভিডিওকে ব্যবহার করে শর্টস তৈরি করতে কয়েক মিনিট লাগবে।তুমি চাইলে দশটি আলাদা আলাদা চ্যানেল খুলে সেখানে শর্টস আপলোড করে লাভ কেমন হয় সেটার চেষ্টা করতে পারো।এরকম ভিডিও যেগুলোর মধ্যে ক্যাটাগরি আছে।তো নিচের লিংকে ক্লিক করোinvideo.io তাহলে তুমি এইরকম দেখতে পাবে সামনে।নতুন হলে সাইন আপ করো না হলে সাইন ইন করো।এখন তুমি শর্টস প্রথম থেকে শুরু করো অথবা এই টেমপ্লেটগুলো ব্যবহার করে সহজেই শর্টস বানাও।তুমি চাইলে এই ভিডিও এর কমিনিটিতে যুক্ত হতে পারো।

আশা করি তোমাদের ভালো লেগেছে,সব বুঝতে পেরেছো।আজকে এই পর্যন্তই।সবাইকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published.